টমেটো এগ স্যুপ, চাইনিজদের ফ্যাভারিট

চাইনিজদের প্রিয় টমেটো এগ স্যুপ, ভূলু;স রেসিপি

চাইনিজদের কাছে নাকি এই টমেটো আর ডিমের রেসিপি খুবই প্রিয়, প্রতি ঘরে ঘরেই টমেটো-ডিমের তরকারি হয় :) । তবে আমার আজকের এই রেসিপিটি সেরকম কিছু নয়। একেবারেই দেশি। আমার সবগুলো রেসিপিই একেবারেই বাংলাদেশের রেসিপি। স্যুপ ব্যাপারটার মধ্যে বিদেশি কিছু একটা থাকলেও টমেটো এগ (ডিম) স্যুপটি বাংলাই তাই খেতেও ভাল লাগবে আশা করি। ছবিটিও ঘরেই তোলা, একেবারে কাঁচা হাতে। আসুন এবার রেসিপিটি তৈরি করি।

কি কি লাগবে? 

টমেটো, কুচি করা – ১ কাপ
পেঁয়াজ  কুচি – ১ টেবিল চামচ
আদা কুচি – ১/২ চা চামচ
রসুন কুচি – ১/২ চা চামচ
চিকেন স্টক – ১/২ লিটার
ডিমের কুসুম (ফেটানো) – ১ টি
টমেটোর সস – ১/২ কাপ
সাদা গোলমরিচ গুঁড়া – ১/২ চা চামচ
লবন – পরিমাণমতো
কাঁচামরিচ –৪/৫ টি
চিনি – ১/২ চা চামচ
কর্নফ্লাওয়ার – ২ টেবিল চামচ
লেবুর রস – ১ টেবিল চামচ

প্রণালীঃ

গরম চিকেন স্টকের মধ্যে টমেটো, পেঁয়াজ, আদা ও রসুন কুচি এবং টমেটোর সস, গোলমরিচের গুঁড়া, লবন ও চিনি দিয়ে চুলায় দিন। ফুটে উঠলে আধা কাপ ঠান্ডা পানিতে কর্ণফ্লাওয়ার গুলে এর মধ্যে দিয়ে দিন। মিশ্রণটি ফুটে উঠলে একটি বাটিতে ফেটানো ডিমের কুসুম আস্তে আস্তে উপর থেকে স্যুপে ঢেলে দিন এবং ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। স্যুপ ঘন হয়ে এলে আঁচ কমিয়ে কাচামরিচ কুচি, লেবুর রস দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

রেসিপিটি কেমন হল জানাবেন। আপনাদের মন্তব্য আর সমালোচনা এই ব্লগ আর আমাদের সবার রান্নার ধারণা আর অভিজ্ঞতাকে আরো সমৃদ্ধ করবে। আরো বেশি পাঠকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে আরো নতুন নতুন রেসিপি নিয়ে।

ভূলু, চট্টগ্রাম
০১/১২/২০১০

মুরগির স্টক তৈরি করবেন যেভাবে?

মুরগীর হাড় গুলো ধুয়ে সামান্য আদা বাটা, রসুন বাটা ও লবন, ১ টি তেজপাতা ও দুই লিটার পানিতে সেদ্ধ করুন। পানি শুকিয়ে অর্ধেক হয়ে গেলে নামিয়ে ছেঁকে নিন। হয়ে গেল মুরগির স্টক। আরো সহজে করতে পারেন, বাজারে এখন চিকেন কিউব পাওয়া যায়। ৭ কাপ পানিতে ১ টি চিকেন কিউব দিয়ে একসাথে জ্বাল দিন। পানি কমে ৬ কাপ হয়ে এলে নামিয়ে নিন।

Posted in স্যুপ | Tagged , , , , , | 2 Comments

স্বাস্থ্যকর চিকেন কর্ণস্যুপ, সহজে তৈরি করুন

চিকেন কর্ণস্যুপ রেসিপি, ভূলু'স রেসিপিশীতের সকালে বা বিকেলের নাশতায় ধোঁয়া ওঠা এক বাটি গরম স্যুপের তুলনা নেই। স্যুপ স্বাস্থকরও বটে। গতবছরের ডিসেম্বর মাসে ভোরের কাগজে আমার কিছু রেসিপি ছাপা হয়েছিল। পত্রিকার রবিবারের ফ্যাশন টেবলয়েডে ছাপার জন্যই তখন রেসিপিগুলো তৈরি করেছিলাম। রেসিপি’র ছবিগুলো তুলেছিল আমার মেয়েরা। ওদের সাধারণ হাতে তোলা ছবিগুলো খুব ভাল না হলেও ছবি দেখে এটা যে স্যুপ তা কিন্তু বোঝা যাবে :)

স্যুপের রেসিপিতে যাওয়ার আগে আসুন একটু জেনে নেই স্যুপ নিয়ে মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া কি বলে?

স্যুপ একধরনের খাবার যা মাংস, সবজি সাথে স্টক, জুস, পানি ও অন্যান্য তরল পদার্থ মিশিয়ে তৈরি করা হয়। গরম স্যুপের বৈশিস্ট্য হচ্ছে অন্যান্য কঠিন উপাদানগুলো পানিতে সিদ্ধ করে করা যতক্ষণ না তা থেকে স্বাদ ও মাংসের জুস না বের না হচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে সুপকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়; পরিস্কার সুপ ও ভারী স্যুপ।স্যুপ স্ট্যুর মতোই এক প্রকারের খাবার যেখানে মাঝে মাঝে কোন পরিস্কার পার্থক্য থাকে না। সাধারণ ভাবে স্যুপ বেশি তরল স্ট্যুর থেকে। (তথ্যসূত্রঃ http://bn.wikipedia.org/wiki/স্যুপ/)

এবার দেখুন কি করে চিকেন কর্ণস্যুপ তৈরি করতে হয়?

উপকরণঃ চিকেন কর্ণস্যুপ রেসিপি, ভূলু'স রেসিপি

মুরগীর মাংস – ১ কাপ
চিকেন কিউব – ১ টি
পানি – ৭ কাপ
(চিকেন কিউব এবং পানি একসাথে জ্বাল দিয়ে স্টক তৈরি করতে হবে)
ডিম – ২ টা
চিনি – ২ চা চামচ
টেস্টিং সল্ট – ১ চা চামচ
সয়াসস – ১ চা চামচ
সিরকা – ১ চা চামচ
রসুন কুচি – ১/২ চা চামচ
তেল – ১ টে চামচ
কর্ণফ্লাওয়ার – ৫ টেবিল চামচ
লেবুর রস – ১ টেবিল চামচ
সুইট কর্ণ – ৩ টেবিল চামচ (বেবি কর্ণ হবেনা)
সাদা গোলমরিচের গুঁড়া  – ১/২ চা চামচ

প্রণালীঃ

মুরগির স্টক তৈরি করবেন যেভাবে?

মুরগীর হাড় গুলো ধুয়ে সামান্য আদা বাটা, রসুন বাটা ও লবন, ১ টি তেজপাতা ও দুই লিটার পানিতে সেদ্ধ করুন। পানি শুকিয়ে অর্ধেক হয়ে গেলে নামিয়ে ছেঁকে নিন। হয়ে গেল মুরগির স্টক।

আরো সহজে করতে পারেন, বাজারে এখন চিকেন কিউব পাওয়া যায়। ৭ কাপ পানিতে ১ টি চিকেন কিউব দিয়ে একসাথে জ্বাল দিন। পানি কমে ৬ কাপ হয়ে এলে নামিয়ে নিন।

স্যুপ তৈরির প্রণালীঃ

মুরগীর মাংস কিউব করে কেটে লবন এবং সয়াসস মেখে ২০ মিনিট রেখে দিন। ২০ মিনিট পর সসপ্যানে তেল গরম করে রসুন কুচি দিয়ে লাল করে ভেজে মুরগীর মাংস দিন। এবার গোলমরিচের গুঁড়া দিয়ে আগেই করে রাখা চিকেন স্টক দিয়ে দিন। স্যুপ ফুটে উঠলে এতে চিনি, লবন ও সুইট কর্ণ দিন। ১/২ কাপ গরম চিকেন স্টকে কর্ণফ্লাওয়ার গুলে ঢেলে দিন। এরপর ডিম ফেটে নিয়ে একটু উঁচু থেকে স্যুপের উপর ঢালুন, এ সময় ঘন ঘন নাড়তে হবে। সবশেষে টেস্টিং সল্ট, সয়াসস, সিরকা দিন। ফুটে উঠলে কাঁচামরিচ কুচি, লেবুর রস দিয়ে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

এ অবস্থায় স্যুপ গরম গরম যতটা ভাল লাগবে, ঠান্ডা স্যুপ পরে কখনো গরম করে খেলে ততটা ভাল নাও লাগতে পারে। তাই বলে মুখ পুড়বেন না যেন। তবে অবশ্যই স্যুপ গরম গরম পরিবেশন অরবেন।

কেমন লাগল জানাবেন।

ভূলু, চট্টগ্রাম
২৮/১১/২০১০

পরবর্তী রেসিপিঃ টমেটো এগ স্যুপ

Posted in স্যুপ | Tagged , , , , | Leave a comment

সুস্বাদু ভর্তা – ভোরের কাগজে প্রকাশিত কয়েক পদ

 

ভর্তার সুস্বাদের কথা সবাই স্বীকার করবেন নিশ্চয়ই। আমাদের ঘরে ঘরে কি শহরে কি গ্রামে নানারকম ভর্তার কদরতো রয়েছেই, ছোট-বড় রেস্টুরেন্টগুলোতেও এখন ভর্তার রমরমা অবস্থা। আমার ঘরেও সব রকমের ভর্তার জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। এর মধ্যে শুটকির ভর্তার জনপ্রিয়তা সবচাইতে বেশি। বিভিন্ন সময়ে ভর্তা করলে আমার ছোট মেয়ে ছবি তুলে রাখে, তাই অনেক ছবিই আছে কিন্তু তার অনেকগুলোরই রেসিপি করা হয়নি।

গত জানুয়ারি মাসে ভোরের কাগজের অনুরোধে শুটকি দিয়ে ভর্তার কিছু রেসিপি করেছি। ভোরের কাগজের ফ্যাশন ট্যাবলয়েডের সম্পাদক রানা ভাইকে এই জন্য আমার এবং আমার ছেলের পক্ষ থেকে অনেক ধন্যবাদ। উনিই ফোন করে করে রেসিপিগুলো তৈরি করতে উতসাহ দিয়েছিলেন। উপরের ছবিটি ভোরের কাগজ পত্রিকা থেকে রানা ভাই ফেইসবুকে দিয়েছিলেন, আর রেসিপিগুলোর যে ছবি দেখছেন তা আমার ঘরে ছেলে-মেয়েরাই তুলেছে। তবে ভোরের কাগজ ছবিগুলো নিয়ে অনেক সুন্দর করে পাতাটা সাজিয়েছেন।

এই রেসিপিগুলোর মধ্যে লইট্যা শুঁটকির ভর্তা এবং ফাইশ্যা শুঁটকির ভর্তা রেসিপি দুটো আগে ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল। চিংড়ি শুঁটকির ভর্তা এবং চাপিলা শুঁটকির ভর্তার রেসিপিগুলো এক-এক করে ব্লগে প্রকাশ করব।

ভর্তার রেসিপিগুলোর জন্য এই লিঙ্কটি দেখুন…
আমার এই রেসিপি ব্লগটি যদি আপনার ভাল লাগে তাহলে ফেইসবুকে আমার ফ্যান পেইজে যোগ দিতে পারেন…
Posted in মিডিয়াতে ভূলু'স রেসিপি, শুটকির ভর্তা | Tagged , , , | 2 Comments

শীতে গরম স্যুপ – ভূলু’স রেসিপি অন ভোরের কাগজ

এই শীতে, রাতের খাবারে ধোঁয়া ওঠা এক বাটি গরম স্যুপ অসাধারণ, তাই না। সেই সাথে স্বাস্থ্যকরতো অবশ্যই। রান্নার ইতিহাস যতদিনের, স্যুপ খাবারটার ইতিহাসও আসলে ততদিনের, সেই যখন থেকে মানুষ রান্না করতে শেখে। স্যুপ আসলে অনেকগুলো উপকরণ একত্রে মিশিয়ে প্রয়োজনীয় মশলা সহ গরম গরম রান্না করা মজার একধরনের খাবার।

দৈনিক ভোরের কাগজের ফ্যশন টেবলয়েডের জন্য এক বাটি নয় কয়েক বাটি গরম স্যুপ করেছিলাম গত সপ্তাহে। রেসিপিগুলো একেবারেই নতুন, আমার ব্লগে আগে প্রকাশিত হয়নি।

শীতে গরম স্যুপ” – এই শিরোনামে আপনারা ১২ ডিসেম্বরের ভোরের কাগজের ফ্যাশন টেবলয়েডে তিন বাটি গরম স্যুপের রেসিপি দেখতে এইখানে ক্লিক করুন

Posted in মিডিয়াতে ভূলু'স রেসিপি, স্যুপ | Tagged , , , , , | 2 Comments

ভূলু’স রেসিপি, দেখুন ভোরের কাগজের ফ্যাশন টেবলয়েডে

কেমন আছেন সবাই। যে যেখানেই থাকেন, সবার জন্য অনেক শুভকামনা রইল। 
একটা ভাল খবর দেব আজ আপনাদের। এই রেসিপি ব্লগের জন্য অনেক ভাল খবর। আজ রোববারের (০৫ ডিসেম্বর ২০১০) ভোরের কাগজের টেবলয়েড লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন “ফ্যাশন” দেখুন, আমার দুইটা চাটনির রেসিপি ছাপা হয়েছে। লম্বা বেগুনের চাটনি এবং টম্যাটোর চাটনি রেসিপিদুটো আগে ব্লগে ছাপা হয়েছিল। তবে গরম স্যুপের নতুন কিছু রেসিপি আসছে একই পত্রিকায়, যা আগে কোথাও প্রকাশ হয়নি। আগামী সপ্তাহে ছাপা হবে আশা করছি। দেখতে ভুলবেন না।
ব্যস্ততার মাঝে অনেকদিন কোন রেসিপি দিতে না পারলেও বেশ কিছু কাজ হয়েছে রেসিপি নিয়ে। যা খুব শীগ্রই আপনারা ছাপার অক্ষরে দেখতে পাবেন পত্রিকায়, সাথে ই-বুক আকারেও পাবেন। ওইদিকে অনেকগুলো রেসিপি টাইপ করা হয়ে গেছে, আরো রেসিপি তৈরি হয়েছে। আমার ছেলে ব্লগের ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করছে, আলাদা একটা সাইট হবে। এর মধ্যে পত্রিকার এই যোগাযোগ একেবারেই মেঘ না চাইতে জলের মত, অনেক ভাল লেগেছে। পত্রিকা থেকে ওয়েব সাইটে যোগাযোগ করার পর আমার ছেলে প্রথম আমাকে বলে, তখনও ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারিনি। পরে যখন পত্রিকা থেকে আগ্রহের কথাটা ওরা স্পষ্ট করেই বলল তখন খুব ভাল লাগল। আমার মেয়েরা সবগুলো নতুন রিসিপি করতে আমাকে অনেক হেল্প করেছ, ছবিও তুলেছে ওরাই।

ভাল থাকবেন সবাই, ধন্যবাদ। সেই সাথে ফ্যাশন টেবলয়েডের সম্পাদককে অনেক ধন্যবাদ।

Posted in মিডিয়াতে ভূলু'স রেসিপি | Tagged , , , , | 2 Comments

কাঁচামরিচে সাদা মুরগী

এই রান্নাটি চট্টগ্রামে অনেকেই খুব পছন্দ করেন। ব্রয়লার মুরগীতে করতেও কোন অসুবিধা হবেনা। আমি অবশ্য ব্রয়লারেই করেছি। উৎসবে অতিথি আপ্যায়নে করতে পারেন রেসিপিটি, সবাই খুব পছন্দ করবে। 
ছবিঃ কাঁচামরিচে সাদা মুরগী
উপকরণঃ
 
মুরগীর মাংস – ১২ টুকরো
আদা বাটা – ১ চা চামচ
রসুন বাটা – ১ টেবিল চামচ
জিরা বাটা – ১/২ চামচ
ধনে গুঁড়ো – ১ চা চামচ
পেঁয়াজ কুচি – ১ টেবিল চামচ
পেঁয়াজ বাটা – ২ কাপ
আস্ত কাঁচামরিচ – ৩/৪ টা
কাঁচামরিচ বাটা – ১ চা চামচ
লবণ – স্বাদমতো
তেল – ৫ টেবিল চামচ
দারুচিনি – ৪/৫ টুকরো (১ ইঞ্চি সাইজের)
এলাচ – ৩টি
তেজপাতা – ২টি (মাঝারী)
ঘন তরল দুধ – ১ কাপ
চিনি – ১/২ কাপ
পানি – ৩ কাপ
লেবুর রস – ১ চা চামচ

প্রণালীঃ
 

মুরগীর মাংস ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার পেঁয়াজ কুচি, দারুচিনি, এলাচ, তেজপাতা, আস্ত কাঁচামরিচ, তেল, পানি ও দুধ বাদে বাকী উপকরণগুলো মুরগীর মাংসে ভাল করে মেখে ১০ মিনিট রেখে দিন।

এবার পাত্রে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি হালকা করে ভেজে নিন। মসলা মাখানো মাংসগুলো দিয়ে নেড়ে দিন। তারপর দারুচিনি, এলাচ, তেজপাতা দিয়ে মাংসটা ২৫-৩০ মিনিট রান্না করুন (কষানো)। মাংস কষানো হলে এবার ৩ কাপ পানি দিন। ঝোল ফুটে উঠলে অল্প আঁচে ঢেকে রান্না করুন। মাঝে মাঝে ঢাকনা খুলে হালকাভাবে নেড়ে দিন। ঝোল ঘন হয়ে এলে দুধ ও কাঁচামরিচ দিয়ে আরো ৫ মিনিট চুলায় দমে রাখুন (নামানোর ৫ মিনিট আগে দুধ দিলে রান্নার স্বাদ ও রঙ সুন্দর থাকে)। হয়ে গেল কাঁচামরিচে সাদা মুরগী। এবার নামিয়ে পোলাওর সাথে গরম গরম পরিবেশন করুন।

ভূলু, অক্টোবর ২০১০, চট্টগ্রাম

Posted in উৎসবের রেসিপি, মাংসের রেসিপি, মুরগীর রেসিপি | Tagged , , | 4 Comments

গরুর কলিজা ভুনা

কলিজা ভুনা রেসিপিটি গরু কিংবা খাসীর কলিজা যেকোনটা দিয়েই করতে পারেন। কাল-কাল করে কলিজা ভুনা সকালে রুটির সাথে অসাধারণ লাগে, আমার ঘরে সবাই খুব পছন্দ করে। তবে আমার স্বামীর ডায়াবেটিস থাকায় এখন কলিজা ভুনার মত রেসিপিগুলো এড়িয়ে চলি আমরা। অনেকদিন পর কোরবানীর ঈদের দিন এই রেসিপিতে গরুর কলিজা ভুনা করেছি আমার ঘরে।

অনেকেই হয়ত কলিজা খেতে পছন্দ করেননা, তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম আগেই। আপনাদের এই অপছন্দের যে কারণই থাক, আমার মনে হয়েছে কলিজা রান্নার পর এর কাঁচা (আঁশটে) গন্ধটাই হয়ত অনেকের বিরক্তির কারণ। তবে আমার হাতে কলিজা রান্না আমার ঘরে সবাই খুব পছন্দ করেন। অনেক আগে ঈদের দিন শ্বাশুড়ি কলিজা ভুনা করতেন, তখন একান্নবর্তী পরিবারে গরুর পাশাপাশি অন্তত দুটো খাসী (বা ছাগল) কোরবানী হত। আমার শ্বশুর নিজ হাতে খাসীর চামড়া ছাড়াতেন, পশু জবাইয়ের ঘন্টা খানেকের মধ্যেই মাংস আর কলিজা পাঠিয়ে দিতেন অন্দর মহলে। ওইদিকে তাজা মাংসের ঝোল, কলিজা ভুনা আর হাতে বানানো চালের রুটি করে সবাইকে ডেকে পাঠানো হত। শ্বশুর তার চার ছেলেকে নিয়ে খেতে বসতেন, তখনো মাংস পুরোপুরি কাটা হয়নি। খাওয়া শেষ করে আবার সবাই চলে যেতেন মাংস কাটতে। দুপুর নাগাদ পুরুষদের সব কাজ শেষ, আর অন্দর মহলে শ্বাশুড়ীর সাথে আমরা প্রায় সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নাগাদ সেই মাংসের বিলি আর রান্নায় ব্যস্ত সময় কাটাতাম। তখনতো এখনকার মত ফ্রিজ ছিলনা; তাই রান্না করে, জ্বাল দিয়ে আর কখনো রোদে শুকিয়ে মাংস সংরক্ষণ করা হত (মাংস সংরক্ষণের টুকিটাকি নিয়ে একটা লেখা তৈরি হয়ে আছে, সম্ভবত আগামী কোরবানীর ঈদের আগে ওয়েবসাইটে দেব)।

যাই হোক, অনেক গল্প করা হলো, এবার আসুন দেখা যাক কি করে করবেন গরুর কলিজা ভুনা?

উপকরণঃ

(গরু বা খাসির) কলিজা – ১/২ কেজি
পেঁয়াজ (কিউব করে কাটা) – ১ কাপ
আদা বাটা – ১ চা চামচ
রসুন বাটা – ১ টেবিল চামচ
পেঁয়াজ বাটা – ২ টেবিল চামচ
মরিচ গুঁড়ো – ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়ো – ১/২ চা চামচ
জিরা বাটা – ১/২ চা চামচ
ধনে গুঁড়ো – ১ চা চামচ
লবন – স্বাদমতো
দারুচিনি, এলাচ, লং একত্রে বাটা – ১/২ চা চামচ
তেজপাতা – ১ টি
পাঁচফোড়ন গুঁড়ো – ১ চিমটি পরিমাণ
দারুচিনি টুকরো – ৩ টি (১ ইঞ্চি সাইজের)
জায়ফল ও জয়ত্রী বাটা – ১/৩ চা চামচ
চিনি – ১ চিমটি পরিমাণ
ভাজা (টালা) জিরা গুঁড়ো – ১/২ চা চামচ
তেল – ৩ টেবিল চামচ

প্রণালীঃ

কলিজা ছোট ছোট টুকরো (১ ইঞ্চি লম্বা আর পাশে ১/২ ইঞ্চি) করে কেটে ভাল করে ধুয়ে নিন। তারপর একটি বাটিতে কলিজার টুকরো গুলো নিয়ে তারমধ্যে তেল, টালা জিরার গুঁড়ো, কিউব করে কেটে রাখা পেঁয়াজ বাদে বাকী সব উপকরণ/মশলা একসঙ্গে মেখে নিন। এবার একটা পাত্রে তেল গরম করে তারমধ্যে মশলা মাখানো কলিজাগুলো দিয়ে অল্প আঁচে নেড়ে কষাতে থাকুন। যতক্ষণ না কলিজার পানি শুকিয়ে তেল ওপরে ঊঠে আসে ততক্ষণ নাড়তে থাকুন। এ অবস্থায় কিউব করে কেটে রাখা পেঁয়াজ দিয়ে দিন, নেড়ে আরো ১৫ মিনিট রান্না করুন। এরপর টালা জিরার গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়ে আরো ৫ মিনিট পরে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। গরম গরম কলিজা ভুনা পরিবেশন করুন।

ভূলু, চট্টগ্রাম, ১৯/১১/২০১০

Posted in ঈদের রেসিপি, মাংসের রেসিপি | Tagged , , , | 7 Comments

গরুর মগজ ভুনা (ব্রেইন মাসালা)

“ব্রেইন মাসালা” কিংবা “গরুর মগজ ভুনা” যে নামেই বলুন, রেসিপিটি যেকোন দিক থেকেই স্পেশাল। কারণ সারা বছর ধরে আমরা গরুর মাংস খেলেও মগজের কোন রেসিপি নিয়ে খুব একটা ভাবিনা। তবে কোরবানী ঈদে তেমন বাড়তি কোন আয়োজন ছাড়াই আমরা ঘরে গরুর মগজ ভুনা কিংবা কলিজা ভুনা’র মত স্পেশাল কোন রেসিপি করতেই পারি। তাই আজ আপনাদের জন্য এই রেসিপিটি নিয়ে এলাম। গরুর মগজ ভুনা রেসিপিটি চেয়েছেন আমার ছেলের এক বন্ধু। ছেলেটি ডাক্তার, ঢাকায় বড় একটা হাসপাতালে হার্ট নিয়ে কাজ-কারবার। ডাক্তারের অনুরোধেই রেসিপিটি আজ সন্ধ্যায় লেখা। এ বছর অবশ্য ঘরে এখনো গরুর মগজ ভুনা করিনি, তবে আজ গরুর কলিজা ভুনা করেছি দুপুরে।

এবার দেখুন কি কি উপকরণ লাগবে?

উপকরণের তালিকা একটু লম্বা দেখালেও আসলে খুব সামান্য এবং হাতের কাছে পাওয়া যায় এমন উপকরণ দিয়েই করেছি রেসিপিটি। নারকেল দুধের ব্যবহারটাই শুধু ভিন্ন, এর জন্য স্বাদটাও হবে দারুণ। কুরানো নারকেল পাটায় পিষে পানিতে চটকে ছেঁকে রসটুকু আলাদা করে নারকেলের দুধ করতে পারেন।

গরুর মগজ – ৩ কাপ
পেঁয়াজ কুচি – ১ কাপ
আদা বাটা – ১ চা চামচ
রসুন বাটা – দেড় চা চামচ
জিরা বাটা – ১/২ চা চামচ
ধনে গুঁড়ো – ১/২ চা চামচ
মরিচ গুঁড়ো – ১/২ চা চামচ
হলুদ গুঁড়ো – ১/২ চা চামচ
এলাচ, দারুচিনি, লং একত্রে বাটা – ১/২ চা চামচ
তেজপাতা – ২টি
কাঁচামরিচ – ৩টি
নারকেল দুধ (ঘন) – ১ কাপ
লবণ – স্বাদমতো
তেল – ১ কাপ
ধনেপাতা কুচি – ২ টেবিল চামচ

প্রণালীঃ

প্রথমে গরুর মগজ হালকা হাতে ধুয়ে সামান্য লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। সেদ্ধ করা মগজ ঠান্ডা করে চটকে নিন। এবার কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি ভাজুন, হালকা বাদামী রঙ হলে নামিয়ে নিন। এরপর ধনেপাতা, কাঁচামরিচ, নারকেল দুধ ও মগজ বাদে সব উপকরণ/মশলা ভাজা পেঁয়াজে দিয়ে দিন। ভাল করে নেড়ে ২/৩ মিনিট ধরে কষান। এরপর এই কষানো মশলায় চটকানো মগজ দিয়ে আরো ১০ মিনিট ধরে রান্না করুন। এ সময় ভাল করে নাড়তে হবে। এবার (১০ মিনিট পরে) নারকেল দুধ ও কাঁচামরিচ দিয়ে আরো ৫ মিনিট নেড়ে রান্না করুন। নামানোর আগে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিন। তৈরি হয়ে গেল মগজ ভুনা।

রুটি কিংবা গরম ধোয়া ওঠা ঝর-ঝরে ভাতে এই মগজ ভুনা অসাধারণ লাগবে।

ভূলু, চট্টগ্রাম, ১৮/১১/২০১০

Posted in ঈদের রেসিপি, মাংসের রেসিপি | 5 Comments

মুরগীর কাটা মাংসের রোস্ট

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। কেমন ছিলেন সবাই। ভাল থাকেন এটাই আমরা সবাই চাই। মুরগীর মাংসের ঝাক্কাস রেসিপিগুলো নিয়ে ঈদের আগেই আপনাদের সামনে হাজির হওয়ার ইচ্ছে ছিল, হয়ে ওঠেনি। ঈদের ঠিক আগে আগে ওদের বাবাকে নিয়ে তিনদিন হসপিটালে থাকা আর ঈদের পরে আবার মেয়েদের অসুস্থ হওয়াটাই কারন। ওদের বাবার ডায়াবেটিস বেড়ে গিয়েছিল রোজায়। দোয়া করবেন সবাই ওনার জন্য আর আমাদের জন্য।

ব্লগে সত্যিই মুরগীর মাংসের রেসিপি খুব একটা দেয়া হয়নি, অনেক আগে কুচো আদায় মুরগী রেসিপিটি দিয়েছিলাম, তারপর আমার মতো করে মোরগ পোলাও আর কয়দিন আগে (সেপ্টেম্বর ২০১০) দৈনিক দিনের শেষে পত্রিকার জন্য  করেছিলাম মোরগ মোসাল্লাম স্পেশাল ঈদ রেসিপিটি

মুরগী রান্নার প্রক্রিয়াটা সহজ বলেই হয়ত এই দিকে খেয়াল করা হয়নি। তাই এই ঈদে কয়েকটি রেসিপি করার চেষ্টা করেছি, আপনাদের ভাল লাগবে। আসলে অনেক রকম করেই আমরা মুরগী রান্না করি। গ্রামে থাকতে দেশি মুরগী এবং মোরগের নানা রকম রান্নার সাথে পরিচয় মায়ের হাত ধরে। পরে শহুরে ফার্মের মুরগী রান্নায় সেই প্রথাগত রেসিপি থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে। তৈরী করতে হয়েছে মুরগী রান্নার নতুন প্রণালী। ফার্মের মুরগীগুলো দেশি মুরগীর মত এতটা শক্ত-সামর্থ হয়না, ফার্মের মুরগী একটু নাজুক প্রকৃতির, রান্নার সময় অল্পতেই মাংস ভেঙে যায়। সেজন্য ফার্মের মুরগী রান্নায় আমি কিছু ব্যাপার মেনে চলি, রেসিপিগুলোতে তার উল্লেখ থাকবে খেয়াল করবেন। তবে একই প্রক্রিয়ায় দেশি মুরগীও রান্না করতে পারবেন, তেমন অসুবিধা হবেনা। যারা অনভিজ্ঞ তারা কোথাও অসুবিধা হলে মন্তব্যের ঘরে লিখে জানাবেন।

বিভিন্ন ভাবেই আমরা রোস্ট করি, আর চিকেন রোস্ট বললে আস্ত মুরগীর রোস্টই হয়ত সবার মনে ভেসে ওঠে। এই রেসিপিটি আস্ত মুরগী টুকরো করে করা, টুকরোগুলো না বড় না ছোট, ঘরে করা অনেক সহজ। আসলে সহজ করার জন্যই এমন টুকরো করেছি।

এবার আসুন দেখে নিই মুরগীর কাটা মাংসের রোস্ট করতে কি কি লাগবে? 

মুরগীর কাটা মাংসের রোস্ট

যা যা লাগবে

মুরগি – ১২ টুকরা (বড়, ছবি দেখুন)
পেঁয়াজ কুচি – ১ কাপ
পেঁয়াজ বাটা – ১ কাপ
রসুন বাটা – ১ টেবিল চামচ
আদা বাটা – দেড় চা চামচ
জিরা বাটা – ১ চা চামচ
ধনে গুঁড়া – ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়া – ১/২ চামচ
মরিচ গুঁড়া – ১ চা চামচ
সয়াসস – ১ চা চামচ
টক দই – ২ টেবিল চামচ
দারুচিনি – ৫ টুকরা (২ ইঞ্চি)
লবঙ্গ – ৪ টি
এলাচ – ৪ টি
তেজপাতা – ২ টি পাতা
তেল – দেড় কাপ
পানি – ৫ কাপ (গরম পানি)
জয়ফল, জয়ত্রী বাটা – ১/৩ চা চামচ
লবন – স্বাদমতো
চিনি – ১/২ চা চামচ
লেবুর রস – ১ চা চামচ

যেভাবে করবেন

মুরগির টুকরাগুলো ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার মুরগির টুকরার সঙ্গে হলুদ ও লবণ মেখে ৫-১০ মিনিট রেখে দিন। ৫-১০ মিনিট পর কড়াইতে তেল গরম করে মুরগির টুকরাগুলো এক এক করে ভেজে আলাদা প্লেটে ঊঠিয়ে রাখুন (নীচের ছবি দেখুন)। খেয়াল রাখবেন তেল যেন পুড়ে না যায়।

প্রথম পর্যায়ে হলুদ-লবন দিয়ে ভেজে নেয়া মুরগীর মাংস

এবার একই তেলে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে নেড়ে ভাজুন। পেঁয়াজ বাদামী রং হলে এতে সয়াসস, টকদই, চিনি, লেবুর রস বাদে উপরের বাকী মসলা দিয়ে ভালভাবে কষিয়ে ভেজে রাখা মুরগির টুকরাগুলো দিয়ে অল্প আঁচে আরও ভালভাবে কষান। ভাল করে কষানো হলে এতে গরম পানি দিন এবং অল্প আঁচে ঢেকে রান্না করুন। কিছুক্ষণ পরপর ঢাকনা খুলে নেড়ে চেড়ে দিন, এ সময় মাংস উলটে দেবেন। ঝোল ঘন হয়ে এলে লেবুর রস, টকদই, সয়াসস ও চিনি দিন। ১০-১৫ মিনিট পর মাংস সিদ্ব হয়ে মাখামাখা হয়ে তেল উপরে উঠে আসলে নামিয়ে নিন।

আপনার ইচ্ছেমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

ভূলু, চট্টগ্রাম
১৪/০৯/২০১০ (ঈদুল ফিতর ২০১০)

পরবর্তী রেসিপিঃ কাঁচামরিচে সাদা মুরগী

ইমেইলে নতুন রেসিপি পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।

Posted in ঈদের রেসিপি, উৎসবের রেসিপি, মাংসের রেসিপি, মুরগীর রেসিপি | Tagged , , , , , | 6 Comments

মোরগ মোসাল্লাম স্পেশাল ঈদ রেসিপি

মোরগ মোসাল্লাম, আমার ঘরে এবার স্পেশাল ঈদ রেসিপি এটি। অনেক আগে মোরগ মোসাল্লামের একটি রেসিপি সংগ্রহ করে দিয়েছিলাম আপনাদের জন্য, ওভেনে করতে হত। আজকের রেসিপিটি একেবারেই  নিজের মত করে করা, সহজেই করা যাবে, ওভেনের দরকার নেই, ঘরে সাধারন হাড়িতেই করা যাবে। উপকরণের পরিমান, তেল এবং মশলার ব্যবহারও কম করার চেষ্টা করেছি।

ছবিঃ মোরগ মোসাল্লাম, স্পেশাল ঈদ রেসিপি ২০১০

এই রেসিপিটির বিশেষত্ব হচ্ছে – দৈনিক দিনের শেষে পত্রিকা তাদের ২০১০ সালের ঈদ স্পেশাল সংখ্যায়  (প্রকাশিতঃ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১০)  রান্না বিশেষজ্ঞের রেসিপি হিসেবে মোরগ মোসাল্লামের এই রেসিপিটি ছেপেছে। এ জন্যে দিনের শেষে পত্রিকার রশিদা আফরোজ এবং সামহ্যোয়ারইনের ব্লগার চট্টগ্রামের নুশেরা তাজরিনকে অনেক ধন্যবাদ। 

দৈনিক দিনের শেষে ঈদ স্পেশাল সংখ্যা (লিঙ্কটি শুধু ইন্টেরনেট এক্সপ্লোরারে খুলবে)
যা যা লাগবে

আস্ত মোরগ – ১ টি (১ কেজি)
পেয়াজ কুচি – ২ টেবিল চামচ
পেয়াজ বাটা – ১ কাপ
মরিচ গুঁড়া – ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়া – ১/২ চা চামচ
ধনে গুঁড়া – ১ চা চামচ
আদা বাটা – ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা – ১ টেবিল চামচ
জিরা বাটা – ১ চা চামচ
টকদই – ২ টেবিল চামচ
গরম মশলা বাটা – ১/২ চা চামচ
তেজপাতা – ২ টি
দারুচিনি – ৩ টুকরা (২ ইঞ্চি সাইজের)
এলাচ – ৩ টি
চিনি – ১/২ চা চামচ
জায়ফল জয়ত্রি গুঁড়া/বাটা – ১/৩ চা চামচ
সয়াসস – ১ চা চামচ
টমেটো সস – ১ টেবিল চামচ
লেবুর রস – ১ চা চামচ
তেল – ১ কাপ
পানি – ৪ কাপ
ঘি – ২ টেবিল চামচ
কাচামরিচ ৩-৪ টি (ফালি করা)
লবন – স্বাদমতো

যেভাবে করবেন

প্রথমে আস্ত মোরগটি চামড়া ছাড়িয়ে ভেতরটা পরিষ্কার করে ডানার অর্ধেকটা, পা ও মাথা কেটে নিতে হবে। এবার মোরগের সাথে লবন, হলুদ, আদা, রসুন মেখে ১/২ ঘন্টা রেখে দিন। এরপর কড়াইতে তেল গরম করে অল্প আঁচে মোরগটি ভেজে তুলুন। এখন একই কড়াইতে গরম তেলে ঘি দিয়ে গরম হলে পেয়াজ কুচি দিয়ে নাড়তে থাকুন। পেয়াজ বাদামী রঙ ধারণ করলে চুলার আঁচ কমানো অবস্থায় টক দই, চিনি, লেবুর রস, ও সয়াসস বাদে একে এক বাকী সব মশলা দিয়ে কষান। ভাল করে কষানো হলে ভেজে রাখা মোরগটি দিয়ে কিছুক্ষণ ভুনে গরম পানি দিন। পাতিলে ঢাকনা দিয়ে রান্না করুন। মাঝে মাঝে ঢাকনা ঊঠিয়ে মোরগটি নেড়ে উল্টে দিতে হবে। মোসাল্লামের ঝোল কমে মাংস সিদ্ধ হয়ে মাখা মাখা হয়ে এলে টকদই, চিনি, লেবুর রস, সয়াসস, টমেট সস ও কাচামরিচ দিয়ে আরো ১০ মিনিট অল্প আঁচে ঢেকে রান্না করুন। ১০ মিনিট পরে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

আপনার পছন্দমত পেস্তা বাদাম কুচি, টমেটো ও শশার টুকরো, পেয়াজ গোল করে কেটে, ধনেপাতা সহ সাজিয়ে পরিবেশন করতে পারেন।

ভূলু, চট্টগ্রাম, ০২/০৯/২০১০

Posted in ঈদের রেসিপি, উৎসবের রেসিপি, মাংসের রেসিপি, মুরগীর রেসিপি, মোরগ মোসাল্লাম | 8 Comments