মজাদার পুডিং


পুডিং-এর রেসিপিটি এই রকমঃ

উপকরণঃ

পুডিং হবে প্রেসার কুকারে, আর যা যা লাগবেঃ

  • দুধ – ১/২ লিটার
  • ডিম – ৫ টা
  • চিনি – ১/২ কাপ বা পরিমানমতো
  • ঘি (গরুর) – ১ চা চামচ

প্রস্তুত প্রণালীঃ

– ১/২ লিটার দুধ নেড়ে নেড়ে জ্বাল দিতে থাকুন, খেয়াল রাখবেন দুধে যাতে স্বর বসে না যায়। তাই ঘন ঘন নাড়তে হবে। দুধ কমে যখন প্রায় অর্ধেক হয়ে যাবে নামিয়ে ঠান্ডা করুন।

– অন্য পাত্রে ৫ টা ডিম ভাল করে ফেটে নিন, এইবার এর সাথে চিনি মেশান। সবটা চিনি গলে যাবে না, তবুও যতটা সম্ভব ভাল করে মেশান। মিশ্রণটি জ্বাল দেয়া ঠান্ডা দুধে দিন, ১ চা চামচ ঘি দিন। ভাল করে ফেটে নিন, …ভাল করে।

– এইবার পছন্দসই একটি পাত্র (প্রেসার কুকার উপযোগী) চুলায় চাপিয়ে তাতে সামান্য চিনি দিয়ে একটু লালচে (পুড়ে) করে নিন, পুডিং যখন উপুড় করে পরিবেশন করবেন তখন দেখতে ভাল দেখাবে।

– প্রেসার কুকারে পানি দিয়ে এর মধ্যে একটি স্ট্যান্ড বসিয়ে তার উপর পুডিং এর মিশ্রণ সহ ঢাকনা দিয়ে পাত্রটি দিন। ৩/৪ সিটি পর্যন্ত রান্না হতে দিন। এই সময়ে পাত্রের ঢাকনা তুলে দেখতে পারেন পুডিং জমেছে কিনা। মিনিট বিশেক এর মত লাগবে পুডিং হতে।

আর প্রেসার কুকার না হলেঃ

– একটা পাত্রে পানি গরম করে, পাত্রটির উপর পুডিং এর মিশ্রণ সহ পাত্রটি দিন ঢাকনা সহ, চুলার আগুন কমিয়ে দিন। নীচে পানি গরম হবে আর এই বাস্পের প্রেসারে উপরে পাত্রে আস্তে আস্তে পুডিং জমাট বাধতে থাকবে, ঢাকনা তুলে দেখবেন হয়েছে কিনা। নামানোর আগে কি করে বুঝবেন পুডিং হয়ে গেছে? একটা কাঠি পুডিং এর মধ্যে চুবিয়ে তুলে নিন, যদি কাঠিতে পুডিং এর অংশ লেগে থাকে বুঝবেন পুডিং হয়নি, যদি দেখেন চুবিয়ে তোলার পর কাঠির গায়ে কিছুই লেগে নেই, তাহলে বুঝবেন পুডিং হয়ে গেছে।

টিপসঃ পূডিং জমাট না বাঁধার কারণ গুলো হতে পারে এই রকম

১। রেসিপিতে ডিমের পরিমান অন্য উপাদান গুলোর তুলনায় হয়ত কম হয়েছে
২। মিশ্রণটি আলাদা ভাবে এবং একসঙ্গে ভাল করে ফেটানো হয়নি হয়ত
৩। পুডিং রান্নার সময় মিশ্রণটির ভেতর কোনভাবে হয়ত বাহির থেকে পানি ডুকে যাচ্ছে

এই কারণ গুলোর জন্যে পুডিং জমাট না বেঁধে পানি পানি হয়ে যেতে পারে।


ভূলু, ঢাকা, ২৫/০১/২০০৭

happy wheels

About ভূলু | ভূলু'স রেসিপি

আমি 'ফজলুর নূর ভূলু'। আমার রান্নাঘরের অরিজিনাল সব রেসিপি নিয়েই আমার এই ব্লগ - "ভূলু'স রেসিপি"। এই রেসিপি ব্লগের মাধ্যমে আমি দেশি খাবার আর তার অতুলনীয় স্বাদের বৈচিত্র তুলে ধরতে চাই। সাথে আমাদের আঞ্চলিক এবং ঐতিহ্যবাহী রান্নাগুলোও থাকবে। ভবিষ্যতে এইসব রেসিপি আর ব্লগের গল্পগাঁথা নিয়ে একটি বই প্রকাশের ইচ্ছে আছে।

৪ thoughts on “মজাদার পুডিং

  1. Rabiul Islam

    ভুলু ভাই, আপনার রেসিপির জন্য অনেক ধন্যবাদ । আমি ভাই চেষ্টা করেছিলাম । বসেওছিল ঠিক মতো । কিন্তু, লবণটা কি পরিমাণ দেব বুঝতে পারিনি । যা হওয়ার তাই হয়েছে । লবণ বেশী হয়ে যাওয়ায় স্প্লেন্ডার(সুইটেনার-ডায়াবেটিকদের জন্য) বেশী দিয়ে ফেলেছিলাম । তাতে এত মিষ্ট হয়েছে যে পুডিং খাওয়াই গেল না । অনুগ্রহ করে যদি বলতেন, ডিম বা দুধের অনুপাতে লবণ কি পরিমাণ নিতে হবে । তবে চা চামচের হিসাবে বললে সুবিধা হয় । গ্রামে বললে আন্দাজ করতে অসুবিধে হবে ।
    আপনার উত্তরের আশায় থাকলাম । খোদা হাফেজ ।

  2. ভূলু | ভূলু'স রেসিপি Post author

    লবন দিতেই হবে এমন কথা নেই। লবন ছাড়াও চলবে।

    আমরা যারা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দা তারা লবন দেই মিষ্টির মিষ্টতায় একটু কড়া ভাব পাওয়ার জন্য। তাই লবনের পরিমান আসলে চা চামচের হিসেবে বলা মুশকিল। আপনি লবন খুব সামান্য দেবেন, এক চিমটি লবনের চার ভাগের এক ভাগ দেবেন। আর মিষ্টি বেশি হলে পুডিং খেতে পারবেন না, তাই খেতে ভাল লাগে এমন পরিমানেই মিষ্টি হওয়া ভাল। আপনি চিনির (মিষ্টির) পরিমান একটু কমিয়ে আরেকবার চেষ্টা করুন, দেখবেন এবার ঠিক হয়ে গেছে। কেমন হয়েছে জানাবেন ভাই।

    ধন্যবাদ, ভাল থাকবেন।

Comments are closed.