কাঁচকলার টিকিয়া

কাচঁকলার স্যুপ রেসিপিটা অনেকেই পছন্দ করেননি, যারা কাঁচকলার স্যুপের রেসিপিটি পছন্দ করেননি তারা টিকিয়ার এই রেসিপিটি ট্রাই করতে পারেন। কাবাবের মতই স্বাদ তাই খেতে অসুবিধা হবেনা আশাকরি। আর রেসিপিটিতে মাছের ব্যবহার একে আরো সুস্বাদু করে তুলেছে। আর পুষ্টিগুণের কথা বলবেন – কাঁচকলা নিজেই সবজি আর এই টিকিয়াতে মাছের ব্যবহার একে আরো পুষ্টিকর করেছে। আমি এই রেসিপিটিতে সিদ্ধ করা বড় মাছ ব্যবহার করেছি, আপনি চাইলে চিংড়িও ব্যবহার করতে পারেন। তবে চিংড়ি এবং বড় মাছে স্বাদ দুরকম হবে। একে কাঁচকলার কাবাবও বলতে পারেন, আমি টিকিয়া বলতেই পছন্দ করি। সবাই তাই বলে।

এবার আসুন দেখি রেসিপিটিতে কি কি লাগবে?

কাঁচকলার টিকিয়া

ছবিঃ কাঁচকলার টিকিয়া (ক্রেডিটঃ বাংলাদেশ ইনফো)

উপকরণঃ

  • কাঁচকলা – ২টি সিদ্ধ
  • মাছ সিদ্ধ – ১ কাপ (বড় মাছ)
  • পেয়াজ কুচি – ১/২ কাপ
  • কাচামরিচ কুচি – ১ টেবিল চামচ
  • ধনেপাতা কুচি – ১ টেবিল চামচ
  • পুদিনাপাতা – ১ টেবিল চামচ
  • লেবুর রস – ১ টেবিল চামচ
  • রসুনবাটা – ১/২ চা চামচ
  • আদাবাটা – ১/২ চা চামচ
  • টালা জিরাগুঁড়া – ১/২ চা চামচ
  • গরম মশলা গুঁড়া (এলাচ, দারুচিনি শুধু) – ১/২ চা চামচ
  • লবণ স্বাদমতো
  • চিনি – ১/২ চা চামচ
  • ২ টি ডিমের সাদা অংশ
  • তেল – ভাজার জন্য
  • বিস্কুটের গুড়া (ব্রেড ক্রাম) পরিমাণমতো

প্রস্তুত প্রণালীঃ

প্রথমেই আদা-রসুনবাটা দিয়ে মাছ এমনভাবে সিদ্ধ করে নিন যাতে পানি মাছের গায়ে শুকিয়ে যায়। একটু ঠান্ডা হলে সিদ্ধ করা মাছের কাটা বেছে নিন।

কাঁচকলা ধুয়ে খোসা সহ সিদ্ধ করে নি। তারপর গরম থাকতে থাকতেই খোসা ছাড়িয়ে ভাল করে মথে নিন।

এবার সিদ্ধ মাছ এবং কাঁচকলা, সাথে পেয়াজ-কাচামরিচ কুচি, লেবুর রস, ধনেপাতা কুচি, পুদিনা পাতা, আদা-রসুনবাটা, জিরার গুঁড়া, গরম মশলা, চিনি এবং স্বাদমতো লবণ দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রণটি হাতের তালুতে নিয়ে গোলাকার কিন্তু চ্যাপ্টা আকৃতির টিকিয়ার মত করে তৈরী করুন। টিকিয়া গুলো এবার ডিমের সাদা অংশে চুবিয়ে ব্রেড ক্রামে গড়িয়ে নিন। সবগুলো টিকিয়া এবার ১৫-২০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন। এতে ব্রেডক্রাম টিকিয়ার গাতে বসে যাবে, তেলে ভেসে পুড়ে যাবেনা।

এবার কড়াইয়ে ভালকরে তেল গরম করুন, তেল গরম হলে চুলার আঁচ কমিয়ে দেবেন। টিকিয়াগুলো এবার অল্প আঁচে ডুবো তেলে এপিঠ-ওপিঠ ভাল করে ভাজবেন।

পরিবেশনঃ

বাচ্চাদের টিফিন কিংবা নাস্তা হিসেবে কাঁচকলার টিকিয়া হতে পারে স্বাস্থকর উপাদেয় খাবার। অতিথি আপ্যায়নেও কাঁচকলার টিকিয়া গরম গরম পরিবেশন করতে পারেন। খাবারটি সবজি এবং মাছের চাহিয়া পূরণ করবে শরীরে।

রান্নার প্রস্তুতপ্রাণালী অনেক বড় হলেও রেসিপিটি আসলে সহজ, আমি সবার বোঝার জন্য বিস্তারিত ভাবে বলেছি। আপনাদের কেমন লাগল জানাবেন, খুশী হব।

happy wheels

About ভূলু | ভূলু'স রেসিপি

আমি 'ফজলুর নূর ভূলু'। আমার রান্নাঘরের অরিজিনাল সব রেসিপি নিয়েই আমার এই ব্লগ - "ভূলু'স রেসিপি"। এই রেসিপি ব্লগের মাধ্যমে আমি দেশি খাবার আর তার অতুলনীয় স্বাদের বৈচিত্র তুলে ধরতে চাই। সাথে আমাদের আঞ্চলিক এবং ঐতিহ্যবাহী রান্নাগুলোও থাকবে। ভবিষ্যতে এইসব রেসিপি আর ব্লগের গল্পগাঁথা নিয়ে একটি বই প্রকাশের ইচ্ছে আছে।

৩ thoughts on “কাঁচকলার টিকিয়া

  1. মোঃ আরিফুর রহমান (চৌধুরী)

    প্রথমে
    সালাম, আপনার এই পরিবেশনটা অর্থাং প্রস্তুত প্রণালী দিয়েছেন, আমরা খুব সহজে বুঝে করতে পারব, আর এগুলো লেখে দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ,

Comments are closed.