টক দই খাওয়ার উপকারিতা

দই (টক দই, মিষ্টি দই)

বেশি করে দই খান

স্বাস্থ্যকর হিসেবে যে সব খাবারকে (healty food) বিবেচনা করা হয় তার অন্যতম দই (yogurt) – এ কথা আমরা সবাই কম বেশি জানি। এর কারণগুলো হলো- খেতে মজা, হজম করতে সহজ, দেহ রক্ষার প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং পুষ্টির চমৎকার উৎস এই দই।

দই খেতে ভালবাসেন না এমন মানুষ পাওয়া যাবেনা। একটু মশলাদার ভারী খাবার খাওয়ার পর দই খাওয়াটা আমাদের অনেকদিনের ঐতিহ্যও বটে। আজকাল অবশ্য কোল্ড ড্রিংকসের সহজ প্রাপ্যতায় দই একটু পিছিয়ে পড়েছে , তবুও দইয়ের আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। প্রচলিত সফ্‌ট ড্রিংকসের চেয়ে দই অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। আমরা জানি, দইয়ে বাস করে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া। কিন্তু এগুলো আমাদের জন্য খুবই উপকারি, আর এই ব্যাকটেরিয়াগুলো আমাদের খাবার হজম করতে সাহায্য করে, অন্ত্রের কার্যকারিতা অটুট রাখতে সাহায্য করে, এমন কি কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়ক।

আজ আমরা টক দই খাওয়ার উপকারিতা (yogurt benefits) জানব। দই একটি দুগ্ধজাত (milk made) খাবার ও দুধের সমান পুষ্টিকর খাবার। টক দই অত্যন্ত পুষ্টিকর, এতে আছে দরকারি ভিটামিন, মিনারেল, আমিষ ইত্যাদি। টক দইতে দুধের চাইতে বেশি ভিটামিন ‘বি’, ক্যালসিয়াম ও পটাশ আছে। এতে কার্বোহাইড্রেট, চিনি ও ফ্যাট নেই। এটি রোগ প্রতিরোধ করতে ও রোগ সারাতে সাহায্য করে।

দই খাওয়ার উপকারিতা

  • দইতে ল্যাটিক অ্যাসিড থাকার কারণে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও কোলন ক্যান্সার কমায়
  • এটি হজমে সহায়তা করে
  • টক দইতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’ আছে যা হাঁড় ও দাঁতের গঠন ঠিক রাখতে ও মজবুত করতে সাহায্য করে
  • কম ফ্যাটযুক্ত টক দই রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ‘এলডিএল’ কমায়
  • দইয়ের আমিষ দুধের চেয়ে সহজে ও কম সময়ে হজম হয়। তাই যাদের দুধের হজমে সমস্যা তারা দুধের পরিবর্তে এটি খেতে পারেন
  • টক দই রক্ত পরিশোধন করতে সাহায্য করে
  • উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা নিয়মিত টক দই খেয়ে রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন
  • ডায়বেটিস, হার্টের অসুখের রোগীরা নিয়মিত টক দই খেয়ে এসব অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন
  • টক দই শরীরে টক্সিন জমতে বাধা দেয়। তাই অন্ত্রনালী পরিষ্কার রেখে শরীরকে সুস্থ রাখে ও বুড়িয়ে যাওয়া বা অকাল বার্ধক্য রোধ করে। শরীরে টক্সিন কমার কারণে ত্বকের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়
  • ওজন কমাতে কম ফ্যাটযুক্ত ও চিনি ছাড়া টক দই খেতে পারেন

লক্ষ রাখুন

  • টক-জাতীয় খাবার গরম অবস্থায় এবং রাতে খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়
  • দই, পেয়ারা, শসা, ক্ষীরা, কলা, শাক ইত্যাদি রাতে কখনই খাওয়া ঠিক নয়
  • দইয়ের পর কোনো সফ্‌ট ড্রিংকস পান না করাই উচিত। কারণ এতে দইয়ের উপকারিতা নষ্ট হয়ে যায়

তথ্যসূত্রঃ ইত্তেফাক, নতুনবার্তা ডটকম

happy wheels

About শাহজাহান সিরাজ

শাহজাহান সিরাজ পেশায় একজন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ। খেতে ভালবাসেন। টুকি-টাকি রান্নাও করেন, অবশ্য যখন আর কোন উপায় থাকে না! বৈচিত্রপূর্ণ খাবারে আকর্ষণ তাঁর। বাংলাদেশের রান্না, এখানকার খাবারের বৈচিত্র, স্বাদ আর ঐতিহ্য তাকে মুগ্ধ করে। খাবারের গুণ আর গল্প নিয়ে তিনি "ভূলু'স রেসিপি" ব্লগে লিখছেন।

One thought on “টক দই খাওয়ার উপকারিতা

Comments are closed.